![]() |
| Moon |
আপনি যদি পৃথিবীর উত্তর মেরুর উপর থেকে তাকান তাহলে দেখবেন পৃথিবী তার অক্ষের স্বাপেক্ষে Counter clockwise বা ঘড়ির কাটার বিপরীতে দিকে ঘুরছে। আমরা যেটাকে বলি পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে। ফলে পৃথিবী থেকে আমরা সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়ে পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখি।
পৃথিবীর মতো চাঁদেরও যদি উত্তর মেরু থেকে দেখেন তাহলে দেখবেন এটাও Counter clockwise ঘুরছে। আবার চাঁদ পৃথিবীর চারপাশেও তার কক্ষপথে Counter clockwise ঘুরছে।
এখন কথা হচ্ছে, অমাবস্যার পর নতুন চাঁদকে যখন আমরা পশ্চিম-দক্ষিণ দিগন্ত আকাশে স্বল্প সময়ের জন্য দেখি এটা কি চাঁদের উদিত হওয়ার সময় নাকি অস্ত যাওয়ার সময়? একটু ভেবে দেখুন তো!!
আগেই বলেছি আমাদের পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে (Counter clockwise). তাই আমরা পূর্বদিক থেকে সূর্য উদিত হতে দেখি। আবার আমরা জানি, অমাবস্যার সময় চাঁদটা পৃথিবীর যেই পাশে সূর্য, ঠিক ঐপাশেই অবস্থান করে। আর নতুন চাঁদ দেখি যখন চাঁদটা এক্সাক্ট সরল রেখা থেকে ক্ষানিকটা সরে যায়। নতুন চাঁদের সময় ক্ষানিকটা সরলেও চাঁদটা কিন্তু পৃথিবীর যেই পাশে সূর্য ঐপাশেই থেকে যাচ্ছে।
ফলে যখন সকাল বেলা সূর্য উদিত হয় তার ক্ষানিকক্ষন পরেই কিন্তু ঠিক একই দিক থেকে চাঁদও উদিত হয়! অর্থাৎ সূর্যের সাথে সাথে নতুন চাঁদও কিন্তু পূর্ব দিক থেকেই উদিত হয়।
আবার আমরা এটাও জানি যে চাঁদের নিজস্ব আলো নাই। সে সূর্যের আলো প্রতিফলন করে বলে আমরা তাকে দেখতে পাই। কাজেই স্বাভাবিক ভাবেই সূর্যের আলোর তুলনায় চাঁদের প্রতিফলিত আলোর তীব্রতা অনেক গুন কম। তাই চাঁদ যখন ছোট বা নতুন থাকে, তখন মূলত সে সূর্য ও পৃথিবীর সংযোজক সরলরেখা থেকে সামান্য পরিমান দূরে থাকে। তখন দিনের আকাশেও কিন্তু সূর্যের সাথে সাথে চাঁদ থাকে। কিন্তু এই ছোট চাঁদের কম তীব্রতার আলো, সূর্যের এতো তীব্রতার আলোর জন্য দেখা যায় না। সেজন্য আমাদের সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সূর্য যখন অস্ত যায় তখন আকাশ কিছুটা অন্ধকার হওয়ায় তখন তার পরপরি অস্ত যাওয়া চাঁদটাকে আমরা ক্ষানিকটা সময়ের জন্য দেখতে পাই।
খেয়াল করবেন, আমরা কিন্তু সন্ধ্যার পর নতুন চাঁদটা অল্প সময়ের জন্য দেখি। সূর্যের মতো করে তার একটু পর পরই চাঁদটাও পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। আর আমরা কেবল ঐ অস্ত যাওয়ার মূহুর্তটাতে আকাশ অন্ধকার হওয়ার সময় অল্প সময়ের জন্য চাঁদ দেখতে পাই।
তার মানে আমরা এটা বুঝলাম যে নতুন চাঁদকে আমরা উদিত হওয়ার সময় দেখি না, বরং অস্ত যাওয়ার সময় দেখি।
এবার আসুন চাঁদের পরবর্তী দিনগুলোতে। চাঁদের বয়স যত বাড়তে থাকে, চাঁদের তত বেশি পরিমান আলোকিত অংশ আমরা পৃথিবী থেকে দেখতে পাই আর আমাদের কাছে মনে হয় দিন দিন চাঁদ যেন বড় হচ্ছে।
এভাবে চাঁদ যত বড় হতে থাকে, ততই সে সূর্য থেকে দূরে সরতে থাকে।
এখন আমরা তো জানলাম যে নতুন চাঁদ সূর্যের পিছন পিছনেই পূর্ব থেকে উদয় হয়ে পশ্চিমে অস্ত যায়। তো এবার আপনি পৃথিবী থেকে চাঁদ পর্যন্ত একটা সরলরেখা কল্পনা করুন আবার পৃথিবী থেকে সূর্যে পর্যন্ত একটা রেখা কল্পনা করুন। দুইটা রেখা আমাদের চোখের সাথে যেই কোণ উৎপন্ন করবে এটাকে বলা হয় Elongation Angle.
চাঁদের দিন যত বাড়বে বা বড় হবে এই Elongation Angle এর মান তত বাড়বে বা সূর্য থেকে চাঁদ দূরে সরতে থাকবে।
চাঁদ এভাবে সূর্য থেকে দূরে সরতে সরতে যখন পৃথিবীর সাথে চাঁদ ও সূর্যের কোণের মানটা প্রায় ৯০° এর মতো হয়, তখন দেখা যায় বিকেল বেলা যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে থাকে তখন চাঁদ আমাদের মাথার উপরে থাকে।
বিকেল বেলা সূর্য দিগন্ত বরাবর থাকাই তীর্যকভাবে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল ভেদ করে আলো আসার সময় সূর্যের অনেক আলো বায়ুমন্ডল দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। ফলে সূর্যের আলোর তীব্রতা কমে যায়।
বিকেলবেলা যেহেতু পৃথিবীর আকাশে সূর্যের আলোর তীব্রতা কমে গেছে কাজেই তখন মাথার উপরের আকাশ পরিস্কার থাকলে আমরা চাঁদের প্রতিফলিত আলোটা দেখতে পাই।
আগেই বলেছি চাঁদ কিন্তু এখন আমাদের মাথার উপরে, কাজেই চাঁদের আলো লম্বভাবে আমাদের পৃথিবীর বায়ুমন্ডলকে ভেদ করে আসার ফলে চাঁদের আলো কম বিক্ষিপ্ত হয়।
আর এজন্যই আমরা তখন দিনের বেলা সাদা চাঁদ দেখতে পাই।

No comments:
Post a Comment