পশ্চিম আকাশে নতুন চাঁদ!
![]() |
| ছবিঃ নতুন চাঁদ |
আমরা যদি পৃথিবীর উত্তর মেরুর উপর থেকে তাকাই তাহলে দেখবো পৃথিবী তার অক্ষের স্বাপেক্ষে Counter clockwise বা ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরছে। আমরা যেটাকে বলি পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে। ফলে সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়ে পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখি।
পৃথিবীর মতো চাঁদেরও যদি উত্তর মেরুর উপর থেকে দেখি তাহলে দেখবো এটাও ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরছে। আবার চাঁদ পৃথিবীর চারপাশেও তার কক্ষপথে ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরছে। চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে সম্পূর্ণ একবার প্রদক্ষিণ করতে যেই সময় নেয় সেই সময়ে পৃথিবী তার নিজের অক্ষের স্বাপেক্ষে ২৭ টি সম্পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করে ফেলে। পৃথিবীর চারপাশে চাঁদ সম্পূর্ণ একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ২৭ দিন ৭ ঘন্টা ৪৩ মিনিট সময় নেয়। এটাকে বলা হয় Sidereal month.
Elongation Angle: আমরা যদি পৃথিবী থেকে সূর্য পর্যন্ত একটি সরলরেখা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদ পর্যন্ত একটি সরলরেখা কল্পনা করি তাহলে এই দুই সরলরেখা আমাদের চোখের সাথে যে কোণ তৈরি করবে তাকে বলা হয় Elongation Angle.
![]() |
| চিত্রঃ Elongation Angle |
যেহেতু চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে এবং চাঁদ সহ পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরছে, সেহেতু এই Elongation Angle এর মান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। যখন Elongation Angle এর মান ০ ডিগ্রি থাকে অর্থাৎ পৃথিবী ও চাঁদের সরলরেখা এবং পৃথিবী ও সূর্যের সরলরেখা একই তলে চলে আসে, তখন দিনের বেলায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পরে ফলে সূর্য কিছু সময়ের জন্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে চাঁদের আড়াল হয় তখন আমরা এটাকে বলি সূর্যগ্রহণ। আবার এই অবস্থায় যেহেতু পৃথিবীর যেই পাশে সূর্য, চাঁদ ঠিক ঐ পাশেই অবস্থান করছে ফলে তখন পৃথিবীর বিপরীত পাশের রাতের আকাশে চাঁদ দেখা যায় না। এই অবস্থাটাকে বলা হয় অমাবস্যা!
পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের ঘুর্ণনের ফলে চাঁদটা পৃথিবী ও সূর্যের সরলরেখা থেকে ক্রমান্বয়ে সরতে থাকে অর্থাৎ Elongation Angle এর মান বাড়তে থাকে। Elongation Angle এর মান এভাবে বাড়তে বাড়তে যখন প্রায় ১০.৫ ডিগ্রি হয় তখন অমাবস্যা কেটে গিয়ে খালি চোখে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হয়। আর এই নতুন চাঁদটাই আমরা সন্ধ্যার পর পরই কিছু সময়ের জন্য পশ্চিম আকাশে দেখতে পাই।
এখন কথা হচ্ছে নতুন চাঁদকে যখন আমরা পশ্চিম-দক্ষিণ আকাশে স্বল্প সময়ের জন্য দেখি এটা কি চাঁদের উদিত হওয়ার সময় নাকি অস্ত যাওয়ার সময়? একটু ভেবে দেখুন তো!!
আগেই বলেছি আমাদের পৃথিবী ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে। তাই আমরা পৃথিবী থেকে পূর্বদিক থেকে সূর্য উদিত হতে দেখি। শুধুমাত্র সূর্য না, পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকের আবর্তনের ফলে সূর্য, চাঁদ সহ আকাশের প্রত্যেকটা নক্ষত্রই মূলত পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়ে পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখি।
আমরা জানি অমাবস্যার সময় চাঁদটা পৃথিবীর যেই পাশে সূর্য, ঠিক ঐপাশেই অবস্থান করে। আর নতুন চাঁদ দেখি যখন চাঁদটা এক্সাক্ট এই সরল রেখা থেকে ক্ষানিকটা সরে যায়। নতুন চাঁদের সময় ক্ষানিকটা সরলেও চাঁদটা কিন্তু পৃথিবীর যেই পাশে সূর্য ঐপাশেই থেকে যাচ্ছে। ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণনের জন্য যখন সকাল বেলা পূর্ব দিক থেকে সূর্য উদিত হয় তার ক্ষানিকক্ষন পরেই কিন্তু ঠিক একই দিক থেকে চাঁদও উদিত হয়! অর্থাৎ সূর্যের সাথে সাথে নতুন চাঁদও পূর্ব দিক থেকেই উদিত হয়।
এই অবস্থায় চাঁদের আলোকিত অংশের ক্ষানিকটা অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায় ফলে চাঁদকে চিকন আর বাকা দেখা যায়। এই বাকা চাঁদের প্রতিফলিত আলোর তীব্রতা সূর্যের আলোর তুলনায় অনেকগুন কম থাকার ফলে সকাল বেলা পূর্ব আকাশে চাঁদের উপস্থিতি আমরা টের পাই না। কাজেই এই নতুন চাঁদটাকে দেখার জন্য আমাদেরকে আকাশ অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সন্ধ্যার পরপরই যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে অস্ত যেয়ে আকাশকে অন্ধকার করা শুরু করবে ঠিক তখনই আমরা এই নতুন চাঁদটা দেখতে পাব।
খেয়াল করবেন, আমরা কিন্তু সন্ধ্যার পর নতুন চাঁদটা অল্প সময়ের জন্য দেখি। সূর্যের মতো করে তার একটু পর পরই চাঁদটাও পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। আর আমরা কেবল ঐ অস্ত যাওয়ার মূহুর্তটাতে আকাশ অন্ধকার হওয়ার সময় অল্প সময়ের জন্য চাঁদ দেখতে পাই।
এজন্যই মূলত নতুন চাঁদকে পশ্চিম আকাশের দিগন্তে অস্ত যাওয়ার মূহুর্তে অল্প সময়ের জন্য দেখা যায়। এভাবে চাঁদের বয়স বা দিন যত বাড়তে থাকে তত তার Elongation Angle এর মান বাড়তে থাকে তথা সে সূর্যের থেকে দূরে সরতে থাকে। ফলে পরবর্তি দিনগুলোতে ক্রমান্বয়ে বেশি সময় ধরে চাঁদ দেখা যায়। এভাবে বাড়তে বাড়তে পূর্ণিমাতে সবচেয়ে বেশি সময়ের জন্য চাঁদকে দেখা যায়।


No comments:
Post a Comment