মঙ্গল গ্রহে বরফের স্তুপ

Martian Polar Ice Cap


মঙ্গল গ্রহের দুই মেরুতে থাকা সাদা এই অংশটুকুকে বলা হয় Polar Ice Cap. এই Polar Ice Cap গঠিত হয় মূলত পানির বরফ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন বরফের মাধ্যমে। পানির বরফ তো আমরা সবাই চিনি, আমাদের পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে যেমন বরফ আছে সেটিই। আর আমরা জানি কার্বন ডাই-অক্সাইড মূলত গ্যাসীয় হয়, কিন্তু কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইডের বরফ কি তাহলে?


মঙ্গলের বায়ুমন্ডলের ৯৫% হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস। এই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের একটা চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো, খুবই নিম্ন তাপমাত্রায় এটি জমে গিয়ে কঠিন বরফ হয়ে যায় আবার তাপমাত্রা বাড়ালে এটি বরফ থেকে সরাসরি গ্যাসে পরিনত হয়ে যায়। মানে এর কোনো তরল অবস্থা নাই। মোটামুটি -78°C তাপমাত্রার নিচে থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড জমে গিয়ে কঠিন বরফ হয়ে যায় আর -78°C এর বেশি তাপমাত্রায় সেই জমে যাওয়া কঠিন বরফ গলে তরলে পরিনত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে বা গ্যাসে পরিনত হয়।


তো, আমাদের পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ ২৩.৫ ডিগ্রী কোণে হেলে থাকার ফলে যেমন ঋতুর পরিবর্তন হয়, ঠিক তেমনই মঙ্গল গ্রহের ঘূর্ণন অক্ষও ২৫ ডিগ্রী কোণে হেলে থাকার কারণে পৃথিবীর মতোই প্রায় একই রকম ঋতু বৈচিত্র্য দেখা যায়। মঙ্গল গ্রহে মোট চারটি ঋতু দেখা যায় বসন্ত-গ্রীষ্ম-শরৎ-শীত। এখন মঙ্গল গ্রহের ঘূর্ণন অক্ষ ২৫° কোণে হেলে থাকার কারনে বছর বেশিরভাগ সময় একটা মেরু অন্ধকারে থাকে তখন সেখানে শীতকাল বিরাজ করে এবং তাপমাত্রা কমে গিয়ে -153°C হয়ে যায়। এই তাপমাত্রায় মঙ্গল গ্রহের বায়ুমন্ডলে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রায় ১২ থেকে ১৬% কার্বন ডাই-অক্সাইড জমে গিয়ে কঠিন বরফে পরিনত হয়। যেটা মঙ্গলবার গ্রহের দুই মেরুতে পানির বরফের উপরর আরও ২ থেকে ৩ মিটার গভীরতার একটি স্তর সৃষ্টি করে। আবার যখন এখানে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে তখন এর দিনের বেলার তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে প্রায় 20°C হয় ফলে এই তাপমাত্রায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন বরফ গলে গিয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিনত হয়ে যায় আর নিচে পরে থাকে পানির বরফ।

No comments:

Post a Comment