পালসার স্টার কি?

 

পালসার স্টার

পালসার কি সেটা বুঝতে হলে আগে আমাদেরকে বুঝতে হবে একটা নক্ষত্রের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটির পরিণতি কি কি হতে পারে।


যেকোনো নক্ষত্রের জ্বালানি শেষ হয়ে যাবার পর এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে, যাকে আমরা সুপারনোভা বিস্ফোরণ বলে থাকি। এই সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর কি অবশিষ্ট থাকবে তা নির্ভর করে নক্ষত্রের ভরের উপর। নক্ষত্রের ভর যদি আমাদের সূর্যের ভরের তুলনায় ২০ গুণ বা তার বেশি হয়ে থাকে তাহলে সেটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়। আবার নক্ষত্রের ভর যদি ৮ থেকে ২০ গুণের মধ্যে হয়ে থাকে তবে সেই ক্ষেত্রে সেটি নিউট্রন স্টারে পরিণত হয় আর এর থেকেও কম ভরের নক্ষত্রগুলো হোয়াইট ড্রফটে পরিণত হয়। এখন আমাদের সূর্যের ভরের তুলনায় ৮ থেকে ২০ গুণ ভরের কোনো নক্ষত্রের যখন সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটে তখন নক্ষত্রের বাইরের পৃষ্ঠের পদার্থ চারদিকে ছড়িয়ে পরে এবং এর কেন্দ্রটি পরিণত হয় নিউট্রন স্টারে। যার ভর সূর্যের ভরের ১.৫ থেকে ৩ গুণ হয়ে থাকে। সুপারনোভা বিস্ফোরণে পর মুহুর্তেই এর কেন্দ্রটির এক বিশাল সংকোচন ঘটে, উদাহরণস্বরূপ ধরতে পারেন মুহুর্তের মধ্যেই পৃথিবীর আকার সংকুচিত হয়ে একটা শহরের আকারের হয়ে গেল। এমন বিশাল সংকোচনের পরে পরমাণুর ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। এবং এটি নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটনের সাথে যুক্ত হয়ে নিউট্রন এবং নিউট্রিনো সৃষ্টি করে। এর মধ্যে নিউট্রিনো চারদিকে ছড়িয়ে পরে আর অবশিষ্ট থাকে শুধু নিউট্রন। যার ফলে এদেরকে বলা হয় নিউট্রন স্টার। 


এখন সূর্যের তুলনায় ১.৫ থেকে ৩ গুণ ভরের কোনো স্টারের আকার যখন একটা ছোট শহরের মতো হয় তখন স্বভাবিক ভাবেই এর ঘনত্ব হবে অকল্পনীয়। এতো ঘনত্বের ফলে যেই সেল্ফ গ্র‍্যাভিটি বা চাপের সৃষ্টি হয় সেটির ফলে নিউট্রন স্টারের ভেতরে ফাঁকা স্থান একদম থাকে না বললেই চলে। 


স্বভাবিক অবস্থায় সকল নক্ষত্রই তার নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘুরতে থাকে। তবে এটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর যদি নিউট্রন স্টারে পরিণত হয় তাহলে এর ঘুর্ণন স্পিড অনেক বেশি বেড়ে যায়। যা মিনিটে ৪০ হাজার বারও হতে পারে। এমন দ্রুতগতিতে ঘূর্ণনের ফলে নিউট্রন স্টারের চারপাশে খুবই শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়। এই শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ডের কারণে নিউট্রন স্টারের দুই মেরু বরাবর রেডিয়েশন নির্গত হয়। নিউট্রন স্টার যেহেতু ঘুরতে থাকে ফলে এই রেডিয়েশনকে অনেকটা টর্চলাইটের মতো মনে হয়। মনে হয় যেন মহাকাশের লাইট হাউজ। আর এই রেডিয়েশন বিম যখন আমাদের পৃথিবীর উপর এসে পরে তখন খুবই সহজে আমরা নিউট্রন স্টারকে ডিটেক্ট করতে পারি। যেটিকে পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে আলো আসছে। মূলত এই ধরনের নিউট্রন স্টারকেই বলা হয় পালসার। 

No comments:

Post a Comment