Elon Musk: An Alien! And his Starlink Satellite Project!

Elon Musk and his Starlink Satellite Project


Elon musk and Starlink Satellite
ছবিঃ Elon Musk এবং Starlink Satellite

    "Elon Musk"! একজন বিলিয়নার হিসেবে নামটা আমাদের অনেকেরই পরিচিত। তার থেকেও বেশি পরিচিত SpaceX এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। প্রতিনিয়ত তিনি এক এক করে অসাধ্য কে সাধন করে যাচ্ছেন, অসম্ভবকে সম্ভব করে যাচ্ছেন। এতোদিন পর্যন্ত যা আমরা কেবলমাত্র বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা সাইন্স ফিকশন গল্প এবং মুভিতে দেখে আসছি, সেগুলোই এক এক করে বাস্তবে রুপ দিয়ে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক! দক্ষিণ আফ্রিকান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক একাধারে মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা SpaceX এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Teasla Motors এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পণ্য প্রকৌশলী, SolarCity এর চেয়ারম্যান, The Booring Company এর প্রতিষ্ঠাতা, Neuralink এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, OpenAI এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান এবং PayPal এর একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি Hyperloop নামক কল্পিত উচ্চ গতিসম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থারও উদ্ভাবক।[1]

    Rocket Reuse করে মহাকাশে মহাকাশযান প্রেরণ করার মাধ্যমে রকেট লঞ্চিং এর খরচ কমিয়ে তিনি মহাকাশ গবেষণাকে করেছেন আরও সহজ। পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপন যেন এখন কাগজ দিয়ে পেপার প্লেন উড়ানোর মতোই সহজলভ্য মনে হয়। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সুভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ Sputnik 1 কে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপনের মাধ্যমেই আমাদের মহাকাশ যাত্রার সূচনা ঘটে। UCS Satellite Database এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ৩৩০০ টিরও বেশি স্যাটেলাইট পৃথিবীকে প্রদক্ষিন করছে।[2] তার মাঝে অন্তর্ভুক্ত আছে আমাদের বাংলাদেশেরও একটি নিজস্ব স্যাটেলাইট। আমাদের সবার পরিচিত "বঙ্গবন্ধু ১" স্যাটেলাইট। 3,709 কেজির এই  স্যাটেলাইটটিও ইলন মাস্কের SpaceX কোম্পানির তৈরি Falcon 9 রকেটে করে Kennedy Space Center থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিলো ২০১৮ সালের ১২ই মে। এভাবেই যাদের স্যাটেলাইট পাঠানোর মতো উপযুক্ত বেজ স্টেশন নাই, তাদের স্যাটেলাইটগুলোকে SpaceX কোম্পানি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থের বিনিময়ে নিজেদের রকেট দিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করে দিয়ে থাকে।

    বর্তমানে আমাদের গোটা পৃথিবী চলছে ইন্টারনেট প্রযুক্তির উপর ভর করে। এই ইন্টারনেট প্রযুক্তিকেই আরেক ধাপ সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে Elon Musk হাতে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক প্রকল্প। তিনি ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এনে ফাইবার অপটিক কেবলের পরিবর্তে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান। আর সেই উদ্দ্যেশ্যেই তিনি পরিকল্পনা করেন ৪২,০০০ স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর। তার উদ্দ্যেশ্যে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপন করে পুরো পৃথিবীর চারপাশে স্যাটেলাইট দিয়ে এক জালের মতো বেষ্টনীর তৈরি করে বিশ্বের সকল জায়গায় সমান গতির ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা। তিনি ৪২,০০০ স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপনের পরিকল্পনা করলেও Federal Communications Commission (FCC) মাত্র ১২,০০০ স্যাটেলাইট স্থাপনের অনুমতি দেয়। কাজেই পরবর্তীতে SpaceX তাদের নতুন পরিকল্পনা মতো প্রায় ১২,০০০ স্যাটেলাইট পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্তরে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় ।[3]
  1. প্রথম স্তর: প্রথমত ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 550 km (340 mi) উচ্চতায় ১৪০০ স্যাটেলাইট স্থাপন করবে।
  2. দ্বিতীয় স্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে 1,110 km (690 mi) উচ্চতায় 2,825 টি Ku-band এবং Ka-band spectrum স্যাটেলাইট স্থাপন করবে।
  3. তৃতীয় স্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে 500 km (340 mi) উচ্চতায় 7,500 V-band স্যাটেলাইট স্থাপন করবে।[3]
Starlink Satellite map
ছবিঃ বাম পাশের ছবিতে প্রত্যেকটা সাদা বিন্দু দ্বারা স্যাটেলাইটের অবস্থান এবং ডানপাশের ছবিতে লাল রেখা দ্বারা তাদের গতিপথ বোঝানো হয়েছে।

    এ তো গেলো শুধুমাত্র Starlink Satellite প্রকল্প এবং তাদের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা। কিন্তু এখন আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে যে, বর্তমানে এতো এতো স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে পরিভ্রমণ করছে। তার মাঝে আবার নতুন করে এতো স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা কেন? ইন্টারনেট সেবা দিতে কি এতো বেশি স্যাটেলাইট লাগে? এতো স্যাটেলাইট পৃথিবীর কোনো ক্ষতি ডেকে আনবে না তো? আমরা তো এখন ঠিকঠাক ভাবে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করতেই পারছি, তাহলে নতুন এই প্রযুক্তির দরকারটাই বা কি? এরকম আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব আজকের এই আর্টিকেলে। কাজেই একটু নড়েচড়ে বসে ধৈর্য্য সহকারে পড়া শুরু করুন। 

    তো, শেষ প্রশ্ন থেকেই শুরু করা যাক, আমরা তো ঠিকঠাক ভাবে ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছিই তাহলে আবার নতুন করে মহাকাশে এতো স্যাটেলাইট পাঠিয়ে নতুন প্রযুক্তিতে ভিন্ন পদ্ধতির ইন্টারনেট সেবার কি দরকার?

    এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে আমাদেরকে আগে বর্তমান ইন্টারনেট প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটু ঘুরে আসতে হবে! প্রায়ই আমাদের সবার মনে একটা কমন প্রশ্ন জাগে, এই যে আমরা মোবাইল অপারেটর এর মাধ্যমে টাকা দিয়ে ডাটা কিনে ইন্টারনেট এক্সেস নিয়ে থাকি, ওয়েব ব্রাউজিং করি, ফেইসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব ব্রাউজ করি। এই টাকাটা মূলত আমরা কাকে পে করি? বা এই টাকাটা শেষ পর্যন্ত কার কাছে যায়? টাকাটা কি আমরা Browsing cost হিসেবে দেই?

    সহজ উত্তর হচ্ছে- না! আমরা যেই টাকা দিয়ে ডাটা কিনে বা মাসিক ওয়াইফাই বিল দিয়ে ইন্টারনেট এক্সেস নেই, এটা মূলত Service cost! এটা আবার কেমন?

    আমাদের ইন্টারনেট জগৎ টা মূলত এক কম্পিউটারের সাথে আরেক কম্পিউটারের কানেকশন বা এক সার্ভারের সাথে আরেক সার্ভারের কানেকশন ছাড়া আর কিছুই নয়! আপনি যদি আপনার স্কুল বা কলেজের আইসিটি ল্যাবের কম্পিউটার গুলোর দিকে খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন সবগুলো কম্পিউটার একটা ক্যাবলের মাধ্যমে প্রত্যেকটি প্রত্যেকটির সাথে যুক্ত থাকে। এই ক্যাবলের মাধ্যমে প্রাইভেসি অনুযায়ী আমরা এক কম্পিউটারের ইনফরমেশন আরেক কম্পিউটারের মাধ্যমে এক্সেস করতে পারি। এটাও একটা নেটওয়ার্ক!! এটাকে বলা হয় LAN বা Local Area Network!

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইন্টারনেট কানেকশনের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ল্যাবের মতো ল্যান কেবল ব্যবহার করা হয় না! এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ফাইবার অপটিক কেবল এবং এই ক্যাবল Internet Protocol Suit এর মাধ্যমে পরস্পর পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে। আমরা যখন ইন্টারনেট ব্রাউজ করি বা গুগলে কিছু সার্চ করি, তখন মূলত আমাদের মোবাইল বা কম্পিউটারটি গুগলের সার্ভারের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। তাদের সার্ভারের প্রাইভেসি অনুযায়ী আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য গুলোর এক্সেস তাদের কাছ থেকে  নিতে পারি। যখন ফেইসবুক ডট কমে ঢুকে নিউজ ফিড ব্রাউজ করি, তখন আমাদের মোবাইল বা কম্পিউটারটি ফেইসবুকের সার্ভারের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। তখন আমরা আমাদের প্রয়োজন অনুসারে তথ্য এক্সেস করতে পারি। সার্ভার মূলত একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম। যেটা অন্য যেকোনো কম্পিউটারকে বিভিন্ন কাজের সুবিধা দিয়ে থাকে। আর, এছাড়াও অন্যদিক থেকে বলতে গেলে বলা যায়, এটা হচ্ছে এমন একটি কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডার যেখানে ওয়েবসাইটগুলোর সমস্ত তথ্য যেমন টেক্সট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি সংরক্ষিত থাকে। প্রত্যেক ওয়েবসাইটের জন্য একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা সংবলিত সার্ভারে একটি নির্দিষ্ট পরিমান জায়গা থাকে। আমরা যখন কোন নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজতে ওয়েবসাইটকে সার্চ করি তখন সার্ভার নির্দিষ্ট তথ্যটি ব্যবহারকারীকে পাঠিয়ে দেয়। এটাই সার্ভারের কাজ।

Fiber Optic Cable Map
ছবিঃ Fiber Optic Cable

    আপনার মোবাইল ফোনের মেমোরিতে স্টোর করে রাখা একটা ফাইলের নাম ফাইল ম্যানাজারের সার্চ অপশনে লিখে সার্চ করলে যেমন ফাইলটি Show করে তেমনি আপনি যখন ফেইসবুকে ঢুকে আপনার বন্ধুর প্রোফাইল দেখার জন্য বন্ধুর নাম লিখে সার্চ করেন তখন ফেসবুকের সার্ভার আপনাকে তাদের সার্ভারে স্টোর করে রাখা বন্ধুর প্রোফাইলটা show করে। আমরা সেগুলোই নিউজফিডে দেখি, যেগুলা দেখার পারমিশন সার্ভার থেকে দেওয়া হয়েছে।

    এখন বলতে পারেন, কই আমার মোবাইলের সাথে তো কোনো ক্যাবল লাগানো নাই তাহলে আমি তাদের সার্ভারে কীভাবে যুক্ত হচ্ছি?

হ্যাঁ, আপনি কম্পিউটার ল্যাবের মতো সরাসরি ক্যাবল দিয়ে তাদের সার্ভারের সাথে যুক্ত নন, আপনি যুক্ত হচ্ছেন ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে। সেটা আবার কেমন? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

    গুগলের সাথে আপনার মোবাইলের কানেকশনটাই ব্যাখ্যা করা যাক! মনে করুন, গুগলের সার্ভার ফাইবার অপটিক ক্যাবলের সাথে সরাসরি যুক্ত আছে। ফাইবার অপটিক ক্যাবল সমুদ্রের নিচ দিয়ে আমাদের বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত আসে, তারপর সেখান থেকে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর এবং ব্রডব্যান্ড কোম্পানি তাদের নিজস্ব ক্যাবল দিয়ে তাদের কন্ট্রোল অফিসে নিয়ে যায়। এবার ওয়াইফাই এর ক্ষেত্রে ইন্টারনেট প্রোভাইডাররা সেখান থেকে ব্রডব্যান্ড লাইনের মাধ্যমে আপনার বাসার রাউটার পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর রাউটারটা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভের মাধ্যমে আপনার মোবাইলের সাথে যুক্ত হয়।

    অপরদিকে মোবাইল অপারেটরের ক্ষেত্রে তারা ফাইবার অপটিক ক্যাবল থেকে ক্যাবল দিয়ে নিজস্ব টাওয়ার পর্যন্ত সংযোগ পৌঁছে দেয়, আর সেই টাওয়ার থেকে আসা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভের মাধ্যমে আপনার মোবাইলের সাথে যুক্ত হয়।

    এভাবেই মূলত ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে বিশ্বের সকল সার্ভার একটির সাথে আরেকটি যুক্ত থাকে। আপনি যখন যেই সার্ভারে প্রবেশ করেন তখন সেটার সাথে আপনার ডিভাইস যুক্ত হয়ে যায়, আর আপনি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনি যেই টাকা দিয়ে মাসিক হিসেবে ওয়াইফাই ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে বা ডাটা কিনে মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে ইন্টারনেট এক্সেস নেন এটা শুধুমাত্র ক্যাবল কোম্পানির service cost!

    কিন্তু এই ফাইবার অপটিক ক্যাবলের একটু সীমাবদ্ধতা আছে। এগুলো মাটি খুড়িয়ে নেওয়া খুবই ব্যয়বহুল। পাহাড় কেটে তো আরও ব্যয়বহুল। তাই সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নেওয়া হয়। ফলে দেখা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় যেখানে ফাইবার অপটিক ক্যাবল পৌছায় নি, সেখানে আমাদের থেকে কম ইন্টারনেট স্পিড পাচ্ছে।

    বাংলাদেশ আর আমেরিকার কথা চিন্তা করেই দেখুন না, তারা যেই পরিমান নেট স্পিড পায়, আমরা কি সেই পরিমান পাই? অবশ্যই না। ঘরের বাহিরে সিগন্যাল আছে তো ভিতরে নাই! বারান্দায় আছে তো রুমে নাই! রুমে আছে তো বিছানায় নাই! গ্রাম অঞ্চলে তো 3G ই ঠিক মতো পাওয়া যায় না। আর পাহাড়ি এলাকাতে, যেখানে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ছোয়া আজ পর্যন্ত পাই নি তাদের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম। এতে করে দেখা যায় একই গ্রহে বসবাস করেও আমাদের মাঝে ডিজিটাল সেবায় বৈষম্য হচ্ছে। বর্তমান জগতের এই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতেই ইলন মাস্ক স্টারলিংক স্যাটেলাইট প্রজেক্ট হাতে নেয়! উদ্দ্যেশ্য, পৃথিবীর Low Earth orbit এ (৫০০কি.মি. গড় উচ্চতায়) স্যাটেলাইট পাঠিয়ে সরাসরি স্যাটেলাইট দিয়ে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া। যার ফলে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের প্রয়োজন হবে না। তাছাড়া ইন্টারনেট খরচ কম হবে এবং speed 50Mb/s থেকে 150Mb/s এর মাঝে থাকবে আর latency হবে মাত্র 20ms থেকে 40ms.[4]

    এখন কথা হচ্ছে অনেক স্যাটেলাইট তো আকশে আছে, নতুন করে এতো স্যাটেলাইট কেন পাঠাবে? কারণ- আমাদের বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট এর মতো জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট গুলো অনেক উচুতে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫,০০০ কি.মি. উচ্চতায়।
 
Geostationary Satellite
ছবিঃ Geostationary Satellite

    কাজেই এখান থেকে ডাটা ট্রান্সফার হতে Latency এর পরিমাণ অনেক বেশি বেড়ে যায়। ফলে এসব Geostationary Satellite দিয়ে ইন্টারনেট এক্সেস ভালোভাবে করা যায় না। এছাড়াও যেগুলো নিম্ন কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো GPS এর কাজে ব্যস্ত। এগুলোর কোনোটাই ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার মতো করে বানানো হয়নি। তাই ইলন মাস্ক পরিকল্পনা করে Low earth orbit এ ৪২,০০০ স্যাটেলাইট স্থাপন করে পৃথিবীর চারপাশে স্যাটেলাইটের বেষ্টনী তৈরি করে নতুন প্রযুক্তির স্যাটেলাইট দিয়ে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার। ফলে সব জায়গায় সমান স্পিডের ইন্টারনেট প্রোভাইড করতে পারবে। কিন্তু FCC থেকে তাকে ১২,০০০ স্যাটেলাইট স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকবারে প্রায় ৬০ টি করে 26 May 2021 পর্যন্ত ২৯ টি মিশনে ১৭৩৭ টি স্যাটেলাইট Launch করা হয়েছে। যার মাঝে ১৬৩৫ টি স্যাটেলাইট সফলভাবে অরবিটালে স্থাপিত হয়েছে।[3]

    আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, অলরেডি বেটা ইউজাররা কিছু কিছু এলাকায় স্টার্লিংক স্যটেলাইট টেকনোলজিতে ইন্টারনেট এক্সেস পাচ্ছে। এমনকি ইলন মাস্ক নিজেও তার একটি টুইটে বলেছেন তিনি এই টুইটটি স্টারলিংক স্যাটেলাইটের ইন্টারনেট এক্সেসের মাধ্যমে করেছেন। Beta User রা বর্তমানে ইন্টারনেট স্পিড পাচ্ছেন 50Mb/s to 150Mb/s এর মাঝে আর latency হচ্ছে মাত্র 20ms থেকে 40ms.[4]

    Starlink Satellite Technology এর সব থেকে বড় সফলতা হলো এটি পৃথিবীর সব অঞ্চলে তথা যেসকল প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনোও পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা পৌছায় নি, সেসকল অঞ্চলেও Superfast Low latency ইন্টারনেট সেবা দিতে সক্ষম। অতল সাগর মহাসাগরের জাহাজ থেকে শুরু করে আকাশে উড্ডয়মান উড়ুজাহাজেও ইন্টারনেট সেবা দিতে সক্ষম ইলন মাস্কের স্টার্লিংক স্যাটেলাইট , এমনকি ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে ঐসকল এলাকায়ও যেখানে ফাইবার অপটিক ক্যাবল কেন! যেখানে কোনো মানুষই আজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।


Reference:

1 comment: